Kosai Love Story

Misty Gram TV
0

কষাই




গ্রামের এক প্রান্তে ছোট্ট একটি মাংসের দোকান ছিল। দোকানটির মালিক রাশেদ। সবাই তাকে "কসাই রাশেদ" বলেই চিনত। তার হাতে ছিল ধারালো ছুরি, কিন্তু মনটা ছিল আশ্চর্য রকমের কোমল। দিনের বেশিরভাগ সময় সে দোকানে কাজ করত, আর সন্ধ্যায় অসহায় মানুষদের চুপিচুপি সাহায্য করত। তবে এসব কথা খুব কম মানুষই জানত। একদিন সকালে দোকানের সামনে একটি বই পড়ে থাকতে দেখে রাশেদ। বইটি ছিল গ্রামের নতুন স্কুলশিক্ষিকা মেহরিনের। বইটি ফেরত দিতে গিয়ে দুজনের প্রথম পরিচয় হয়। সেদিনের ছোট্ট কথোপকথন ধীরে ধীরে বন্ধুত্বে রূপ নেয়। মেহরিন বুঝতে পারে, মানুষের পেশা দিয়ে তার চরিত্র বিচার করা যায় না। অন্যদিকে রাশেদ প্রথমবার অনুভব করে, কেউ তাকে তার কাজের জন্য নয়, মানুষ হিসেবে সম্মান করছে। কিন্তু গ্রামের কিছু মানুষ এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। তারা নানা অপবাদ ছড়াতে শুরু করল। মেহরিনকে বলা হলো, "একজন কসাই কখনো ভালো স্বামী হতে পারে না।" মেহরিন কারও কথা বিশ্বাস করল না। সে বলল, "যে মানুষ অন্যের ক্ষুধার কথা ভাবে, বৃদ্ধদের বিনা টাকায় মাংস দেয়, এতিমদের পাশে দাঁড়ায়—সে খারাপ হতে পারে না।" কিছুদিন পর ভয়াবহ বন্যায় গ্রামের বহু পরিবার বিপদে পড়ে। তখন রাশেদ নিজের দোকানের সমস্ত খাবার বিনামূল্যে মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেয়। নিজের সঞ্চয়ের টাকাও ত্রাণে খরচ করে। সেই দিন গ্রামের মানুষ প্রথমবার বুঝতে পারে, একজন মানুষের পরিচয় তার পেশা নয়—তার মানবতা। অবশেষে গ্রামের প্রবীণরাও এই সম্পর্ক মেনে নেন। খুব সাধারণ আয়োজনের মধ্যেই রাশেদ ও মেহরিনের বিয়ে হয়। বিয়ের রাতে মেহরিন রাশেদের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে, "তোমার হাতে ছুরি আছে, কিন্তু হৃদয়ে ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার কাছেই আমি আমার পুরো জীবন তুলে দিলাম।" রাশেদ উত্তর দেয়, "মানুষ যদি হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে শেখে, তাহলে কোনো পেশাই তার পরিচয় নয়। তার পরিচয় শুধু তার মানবতা।" সমাপ্ত।


Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default