বেপরোয়া
রিয়াজ ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করত। গ্রামের মানুষ তাকে ভালোবাসলেও তার রাগী স্বভাবের জন্য সবাই তাকে "বেপরোয়া" বলেই চিনত। কারও ওপর জুলুম হলে সে একা দাঁড়িয়ে যেত, ফল কী হবে তা কখনো ভাবত না।
অন্যদিকে শ্রাবণী ছিল শান্ত, শিক্ষিত এবং সাহসী এক তরুণী। শহরে পড়াশোনা শেষ করে সে নিজের গ্রামে ফিরে আসে। তার স্বপ্ন ছিল গ্রামের শিশুদের জন্য একটি বিনামূল্যের পাঠশালা গড়ে তোলা।
প্রথম দেখা থেকেই দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। শ্রাবণী মনে করেছিল রিয়াজ শুধু ঝগড়াটে একজন যুবক। আর রিয়াজ ভাবত, শহর থেকে আসা মেয়েরা গ্রামের মানুষের কষ্ট বোঝে না।
একদিন গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গরিব কৃষকদের জমি দখলের চেষ্টা করে। সবাই ভয়ে চুপ থাকলেও রিয়াজ একাই প্রতিবাদ করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় শ্রাবণী প্রথমবার নিজের চোখে দেখে, রিয়াজ নিজের স্বার্থের জন্য নয়, অন্যের অধিকারের জন্য লড়ছে।
এরপর দুজন একসঙ্গে গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ায়। তারা শিশুদের পড়াশোনা, কৃষকদের আইনি সহায়তা এবং গ্রামের উন্নয়নের জন্য কাজ শুরু করে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে জন্ম নেয় গভীর বিশ্বাস, আর সেই বিশ্বাস একসময় ভালোবাসায় পরিণত হয়।
কিন্তু দুর্নীতিবাজদের চোখে তারা হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাধা। রিয়াজের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়, আর শ্রাবণীকে ভয় দেখিয়ে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়। তবুও তারা পিছিয়ে যায়নি।
একদিন গ্রামের সব মানুষ একত্রিত হয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়। মিথ্যা অভিযোগ ভেঙে পড়ে, দোষীরা আইনের হাতে ধরা পড়ে। গ্রামের হারানো জমি ফিরে আসে প্রকৃত মালিকদের কাছে।
সেই সন্ধ্যায় পাঠশালার উঠোনে দাঁড়িয়ে রিয়াজ শ্রাবণীকে বলল, "আমি সবসময় ভাবতাম শক্তি মানেই রাগ। তুমি শিখিয়েছ, আসল শক্তি হলো ধৈর্য আর সত্যের পাশে থাকা।"
শ্রাবণী মৃদু হেসে উত্তর দিল, "বেপরোয়া হওয়া খারাপ নয়, যদি সেই বেপরোয়াতার লক্ষ্য হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই।"
কয়েক মাস পরে গ্রামের মানুষদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়। সেই দিন সবাই বুঝেছিল, সত্যিকারের ভালোবাসা শুধু দুটি হৃদয়কে নয়, পুরো সমাজকেও বদলে দিতে পারে।
সমাপ্ত।

