তুমি আমার জীবন
গ্রামের সাধারণ ছেলে আরিয়ান ছোটবেলা থেকেই মায়ের কষ্ট দেখে বড় হয়েছে। বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি দিনমজুরের কাজ করে সে। তার একটাই স্বপ্ন—একদিন বড় মানুষ হয়ে মায়ের মুখে হাসি ফোটাবে।
একদিন বাজার থেকে ফেরার পথে বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক মেয়ে, মায়াকে দেখে। মায়ার গাড়ি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আরিয়ান নিজের ভাঙা ছাতা দিয়ে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেয়। সেই ছোট্ট পরিচয় থেকেই শুরু হয় বন্ধুত্ব।
ধীরে ধীরে তারা একে অপরকে ভালোবাসতে শুরু করে। কিন্তু মায়া ছিল ধনী পরিবারের একমাত্র মেয়ে, আর আরিয়ান ছিল দরিদ্র। মায়ার বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “গরিব ছেলের সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে কখনো হবে না।”
মায়া পরিবারের চাপে ভেঙে পড়লেও আরিয়ান তাকে বলে, “আমি তোমাকে এখনই নিয়ে যেতে চাই না। আমি নিজের যোগ্যতায় তোমার হাত চাইতে আসব।”
এরপর শুরু হয় সংগ্রাম। আরিয়ান শহরে চলে যায়। দিনে কাজ আর রাতে পড়াশোনা করে। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর সে নিজের একটি সফল ব্যবসা গড়ে তোলে। অন্যদিকে মায়া প্রতিটি দিন অপেক্ষা করে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ থাকে না।
পাঁচ বছর পর গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে আবার তাদের দেখা হয়। আরিয়ান তখন সফল, সম্মানিত একজন মানুষ। মায়ার বাবা তার পরিবর্তন দেখে অবাক হয়ে যান। তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের মূল্য টাকায় নয়, চরিত্র ও পরিশ্রমে।
অবশেষে মায়ার বাবা নিজেই আরিয়ানের কাছে ক্ষমা চান এবং মায়ার হাত তার হাতে তুলে দেন।
বিয়ের রাতে মায়া চোখে জল নিয়ে বলে, “আমি ভেবেছিলাম তোমাকে হারিয়ে ফেলেছি।”
আরিয়ান মৃদু হেসে উত্তর দেয়, “ভালোবাসা যদি সত্যি হয়, তাহলে দূরত্ব হারায়, মানুষ নয়। তুমি শুধু আমার ভালোবাসা নও… তুমি আমার জীবন।”
সমাপ্তি।

