প্রেমের টানে শহরের ছেলে
ঢাকার ব্যস্ত শহরে বড় হয়েছে আরিয়ান। পড়াশোনা শেষ করে সে বাবার ব্যবসায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শহরের কোলাহল আর কৃত্রিম জীবন তার ভালো লাগত না। একদিন বাবার জমির কাজ দেখার জন্য তাকে গ্রামের বাড়িতে যেতে হয়।
গ্রামে পৌঁছে আরিয়ান যেন এক নতুন পৃথিবী দেখতে পেল। সবুজ ধানের মাঠ, কাঁচা রাস্তা, নদীর পাড় আর মানুষের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করে।
এক সকালে নদীর ঘাটে হাঁটতে গিয়ে তার দেখা হয় গ্রামের মেয়ে মেঘলার সঙ্গে। মেঘলা কলসি ভরে পানি আনছিল। হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যেতে গেলে আরিয়ান তাকে ধরে ফেলে। দুজনের চোখাচোখি হয়। মেঘলা লজ্জায় কিছু না বলেই চলে যায়, কিন্তু আরিয়ানের মনে সেই মুখ গেঁথে যায়।
এরপর প্রতিদিন কোনো না কোনো অজুহাতে আরিয়ান সেই নদীর ঘাটে যেতে থাকে। একদিন সাহস করে মেঘলার সঙ্গে কথা বলে। প্রথমে মেঘলা খুব একটা পাত্তা না দিলেও ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
কিন্তু এই বন্ধুত্ব সবাই ভালো চোখে দেখে না। গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি রুদ্র, যে ছোটবেলা থেকেই মেঘলাকে বিয়ে করতে চায়, শহরের ছেলেকে মেঘলার সঙ্গে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, এই সম্পর্ক কোনোভাবেই গড়ে উঠতে দেবে না।
অন্যদিকে, আরিয়ানের বাবা ফোন করে জানিয়ে দেন—দুই দিনের মধ্যে তাকে শহরে ফিরে আসতেই হবে। আরিয়ান বুঝতে পারে, তার সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। সে কি শহরে ফিরে যাবে, নাকি মেঘলার জন্য গ্রামেই থেকে যাবে?
ঠিক তখনই সন্ধ্যায় মেঘলা আরিয়ানকে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে লেখা—
"আগামীকাল বিকেলে বটগাছের নিচে এসো। তোমাকে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলব..."
আরিয়ান অবাক হয়ে চিঠির দিকে তাকিয়ে থাকে

