বেকার ছেলের জীবন
পাচ্ছে না। প্রতিদিন ভোরে চাকরির আবেদন পাঠায়, ইন্টারভিউ দেয়, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
রাহুলের বাবা একজন দিনমজুর। সংসারের অভাবের কারণে বাবা চান ছেলে যেকোনো কাজ করুক। কিন্তু রাহুলের স্বপ্ন ছিল নিজের যোগ্যতায় একটি ভালো চাকরি পাওয়া। অন্যদিকে মা সবসময় ছেলেকে সাহস দেন—"একদিন সব ঠিক হবে।"
গ্রামের মানুষ রাহুলকে নিয়ে নানা কথা বলতে থাকে। কেউ বলে, "এত পড়াশোনা করে লাভ কী?" আবার কেউ বলে, "চাকরি না পেলে পড়াশোনার দাম নেই।" এসব কথা রাহুলকে ভিতর থেকে ভেঙে দেয়।
রাহুলের প্রেমিকা মায়া প্রথমদিকে তাকে অনেক উৎসাহ দিত। কিন্তু পরিবারের চাপে একসময় মায়ার বিয়ে অন্য একজন প্রতিষ্ঠিত ছেলের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। এই খবর শুনে রাহুল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
একদিন শহরে একটি ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে রাহুল দেখে, টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। সে সৎ পথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
বাড়ি ফিরে রাহুল বুঝতে পারে, শুধু চাকরির অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। সে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ছোট একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করে। প্রথমে খুব কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে ব্যবসা সফল হতে থাকে।
কয়েক মাস পর সেই ব্যবসায় গ্রামের আরও কয়েকজন বেকার যুবক কাজের সুযোগ পায়। যারা একসময় রাহুলকে অপমান করেছিল, তারাই এখন তার প্রশংসা করে।
এরপর একদিন সেই কোম্পানি থেকেই রাহুলের কাছে চাকরির অফার আসে, যেখানে সে বহুবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। কিন্তু এবার রাহুল বিনয়ের সঙ্গে জানিয়ে দেয়, সে এখন অন্যদের কর্মসংস্থান তৈরি করছে।
শেষ দৃশ্যে রাহুল বলে—
"বেকার হওয়া অপরাধ নয়। হাল ছেড়ে দেওয়াটাই আসল পরাজয়। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে একদিন সফলতা আসবেই।"

