Bou Jokhon Goyenda Story

Misty Gram TV
0

বউ যখন গোয়েন্দা




গল্পরাফি আর নীলা—বিয়ের মাত্র তিন মাস। বাইরে থেকে দেখলে তারা সুখী দম্পতি, কিন্তু রাফির আচরণে হঠাৎ অদ্ভুত পরিবর্তন আসে। প্রতিদিন একই সময়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়, মাঝরাতে ফিরে আসে, আর ফোনে সবসময় পাসওয়ার্ড। নীলাকে কিছুই জানায় না।
পাড়ার লোকেরা ফিসফিস করতে শুরু করে। কেউ বলে রাফির অন্য সম্পর্ক হয়েছে, কেউ বলে সে অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়েছে। নীলা কান্নাকাটি না করে সিদ্ধান্ত নিল—সত্যটা নিজেই জানবে।
একদিন সে ছদ্মবেশে রাফির পিছু নিল। কখনও ফল বিক্রেতা, কখনও ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে সাধারণ পথচারী সেজে রাফিকে অনুসরণ করতে লাগল। কিন্তু রাফি এমনভাবে চলাফেরা করত যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে কিনা, সেটাও সে বুঝতে পারে।
এক রাতে নীলা দেখে রাফি শহরের এক পুরোনো গুদামে ঢুকেছে। সাহস করে সেও ভেতরে যায়। সেখানে গিয়ে সে অবাক হয়ে দেখে—কোনো অপরাধের আস্তানা নয়, বরং কয়েকজন এতিম শিশু পড়াশোনা করছে। রাফি নিজের পরিচয় গোপন রেখে তাদের পড়াশোনা, খাবার আর চিকিৎসার সব খরচ বহন করছে।
ঠিক তখনই কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুদামে ঢুকে চাঁদা দাবি করে। নীলা দ্রুত বুদ্ধি খাটিয়ে বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয় এবং পুলিশে খবর দেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ এসে সবাইকে গ্রেপ্তার করে।
রাফি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুমি এখানে এলে কীভাবে?”
নীলা হেসে উত্তর দেয়, “যখন স্বামী রহস্য লুকায়, তখন বউয়ের ভেতরের গোয়েন্দা জেগে ওঠে।”
রাফি সব সত্য খুলে বলে। সে চেয়েছিল ভালো কাজের প্রচার না হোক, তাই কাউকে কিছু জানায়নি।
বাড়ি ফেরার পথে রাফি নীলার হাত ধরে বলে, “আজ যদি তুমি না থাকতে, এতগুলো শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেত।”
নীলা মুচকি হেসে বলে, “স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার নয়, বিশ্বাসেরও। আর বিশ্বাসের জন্য কখনও কখনও গোয়েন্দাও হতে হয়।”
সেদিন থেকে পাড়ায় নীলার নতুন নাম হয়ে যায়—“গোয়েন্দা বউ”। তবে সে শুধু রহস্যের সমাধানই করেনি, স্বামীর সবচেয়ে বড় গোপন মানবিক কাজেরও সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।



Tags

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default